
শেষ মুহূর্তে নাটকের মহড়া'
আজ বুধবার শুভ চতুর্থী। আর মাত্র একদিন বাকি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৪ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। নিয়ম মেনে পাঁচ দিন ধরে মহাসমারোহে চলবে দুর্গাপুজো। পূজাকে ঘিরে সকলেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বিভিন্ন মন্দিরে মাসাধিকাল ধরে চলা নৃত্য নাট্য, গীতি আলেখ্য, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

পূজাকে ঘিরে কেনাকাটাও চলছে সমানতালে। এখানকার শপিং মল এবং বাঙ্গালী ও ভারতীয় মালিকানাধীন দোকান গুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মতো। কেউ কেউ কেনাকাটা করছেন অনলাইনে। এককথায় পুরোদমে চলছে কেনাকাটা। আর পুজোর দিনগুলিতে নতুন জামা-কাপড় পরে সকলেই সমবেত হবেন পুজো মণ্ডপে। দেবেন অঞ্জলি। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ঢাক-ঢোলের সঙ্গে আরতি আর নাচে-গানে প্রবাসীরা ফিরে পাবেন দেশের উৎসবের অনুভূতি। সেই সঙ্গে চলে আড্ডা যা বাঙালির একান্ত আপন। পুজো মণ্ডপের এই নির্ভেজাল আড্ডার জুড়ি মেলা ভার। মধ্যরাতে ক্লান্ত পায়ে বাড়ি ফিরে খানিক বিশ্রামের পর আর এক প্রস্ত নতুন জামা কাপড় পরে আবারও ঘুরে বেড়াবেন এক মন্দির থেকে অন্য মন্দির।

এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবেও মিশিগানে বেশ কজন ভারতীয় শিল্পীর আগমন ঘটছে। পূজা জুড়ে তারা মিশিগান মাতাবেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় পূজা কমিটিগুলো আগত শিল্পীদের নাম ঘোষণা করেছে। সেই সাথে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা তে থাকছেই।
এবার মিশিগানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে শিব মন্দির টেম্পল অব জয়, মিশিগান কালিবাড়ি, ডেট্রয়েট দুর্গা মন্দির, বিচিত্রা, বিচিত্রা ইনক, স্বজন উল্লেখযোগ্য। এবার অধিকাংশ মন্দির ও মন্ডপে তিথি অনুযায়ী (২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর) পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কয়েকটি মন্দিরে উইকএন্ড-এ অর্থাৎ শনি ও রোববার অনুষ্ঠিত হবে পূজা। ষষ্ঠী থেকে দশমী, পুজোয় বাদ যায় না কোনও আচার-অনুষ্ঠান। প্রবাসের পূজা হলেও রীতি মেনে নবপত্রিকা, সন্ধিপুজো, আরতি, দর্পণ বিসর্জন, সবই হয় নিয়ম নিষ্ঠা ভরে।

হিন্দু শাস্ত্র মতে, দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। মানব জীবনে দুঃখের যেমন শেষ নেই, তেমনি শাশ্বত আনন্দের উপলক্ষেরও কমতি নেই। শারদ উৎসব বাঙালির ঐতিহ্য ও পরম্পরা বহন করে চলেছে। শারদ উৎসবের শুভলগ্নে আবেগ আর সম্প্রীতির গভীর মিলনমেলার প্রতীক্ষায় পুরো মিশিগান।